জন্ম ও শিক্ষা তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা শহরের রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম উমেদ আলী মিঞা। পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে ১৯২৩ সালে এন্ট্রান্স (ম্যাট্রিকুলেশন) পাস করার পর তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯২৭ সালে সেখান থেকে চিত্রকলায় বাণিজ্যিক শিল্প বিভাগে ড্রইং কোর্স সমাপ্ত করেন।
কর্মজীবন কলকাতায় পড়ার সময়ই তিনি পত্রপত্রিকায় লেখালেখি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করেন।
কলকাতা পর্ব: শিশু পত্রিকা শিশু সাথী-তে সাংবাদিক ও ইলাস্ট্রেটর হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি ইসলামিয়া হাই স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন।
বেতার জীবন: দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং পরে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে যোগ দিয়ে আমৃত্যু স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্যকর্ম ও বৈশিষ্ট্য তিনি প্রায় শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার সিংহভাগই শিশু-কিশোর উপযোগী। তাঁর কবিতার ছন্দ, শব্দচয়ন এবং পল্লি প্রকৃতির বর্ণনা অত্যন্ত প্রাণবন্ত। তাঁর লেখা বিখ্যাত কবিতা "আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর, থাকি সেথা সবে মিলে কেহ নাহি পর..." বাংলা সাহিত্যের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পদ।
কাব্যগ্রন্থ: ময়নামতীর চর (১৯৩২ — এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত), অনুরাগ (১৯৩২), পদ্মানদীর চর (১৯৫৩), মধুমতীর চর (১৯৫৩)।
শিশুসাহিত্য: চোর জামাই (১৯২৭), মেঘকুমারী (১৯৩২), ঝিনুক কুঁড়ি, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, কুঁচবরণ কন্যা, শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা।
উপন্যাস ও নাটক: বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ উপহার, রূপকথা প্রভৃতি।
পুরস্কার ও সম্মাননা সাহিত্যকর্মে অনন্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মাননায় ভূষিত হন:
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২)
প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫)
মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৮৮)
১৯৭৯ সালের ২৭ জুন রাজশাহীতে এই জনপ্রিয় সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন।
.jpg)